রংপুরে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, রংপুর মহানগর। শনিবার (১১ এপ্রিল ) বিকেলে নগরীর টাউন হল চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড় ও প্রেস ক্লাব চত্বর ও গ্রান্ড হোটেল মোড় প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বেলাল অভিযোগ করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি জনসভায় রংপুরে এসে গণভোটের পক্ষে সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা টালবাহানা করছেন, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার সামিল।
মাহাবুবুর রহমান বেলাল বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। অথচ সরকারে গিয়ে বিএনপি সেই আত্মত্যাগ ভুলে গিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। যা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’’ এ সময় তিনি অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সারা দেশে বিএনপি নেতাদের নিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য রাখেন রাখেন মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি আনিসুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, জাতীয় ছাত্র শক্তির রংপুর মহানগর আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম খলিল সহ জোটের স্থানীয় নেতারা।
এ সময় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একইসঙ্গে দেশে চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসন না হলে রংপুর থেকে আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও বিএনপিকে সতর্ক করেন তারা।