কুমিল্লায় স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মু .আবদুর রউফ সরকার, বুড়িচং, কুমিল্লা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একাধিক বাড়িঘর দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এক নারীর সঙ্গে কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের দুজনকে স্থানীয়রা আটক করে মারধর করে। এ সময় পার্শ্ববর্তী মাসকরা গ্রাম থেকে ওই বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষণার জেরে স্থানীয়রা লাঠিসোঠা নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ করে। এতে সোনাপুর গ্রামের আফতাবুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এর জেরে শনিবার বিকেলে সোনাপুরের লোকজন একত্রিত হয়ে মাসকরা গ্রামে আক্রমণ করে দুইটি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরে মাসকরার লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে তাদের চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
উভয়পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট কাজ করে।সংঘর্ষে ছাদেক মিয়ার পরিবারের চারটি ঘর পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বলতে থাকে। কিন্তু ততক্ষণে সব পুড়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন, সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে করে কিছু বাড়িঘর পুড়ে যায়। ভাঙচুর করা হয় একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আগুন নেভানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কিভাবে আগুনের সূত্রপাত ও কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিক বলতে পারেন নি তিনি।
এই তিনটি বাসের ভেতরের অংশ পুরোপুরি জ্বলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।