কুমিল্লা-বাগড়া সড়কের বেহাল দশা- মোহাম্মদ মাসুদ, সম্পাদক. দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ
কুমিল্লা-নয়নপুর-বাগরা সড়কটি বেহাল দশায় রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। রাস্তাটির এই খারাপ অবস্থার কারণে কসবা, নয়নপুর, নন্দীরবাজার, মাঝিগাছা, তলপী, ফকির বাজার, কাপুর, ছয় গ্রাম, পাঁচড়া, হরিমঙ্গল, সেনের বাজার ও শশীদলের মতো এলাকাগুলোতে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সড়কের অবস্থা:
রাস্তাটি ভাঙা ও খারাপ অবস্থায় আছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন, তারা চরম দুর্ভোগে আছেন। রাস্তাটির খারাপ অবস্থার কারণে কসবা, নয়নপুর, নন্দীরবাজার, মাঝিগাছা এবং শশীদলের মতো অনেক এলাকা প্রভাবিত হয়েছে।সামান্য বৃষ্টিতে চালাচলের অযোগ্য হয়ে যায় কুমিল্লা জেলা সদর (চাঁনপুর) ব্রিজ হয়ে বাগড়া যাওয়ার সড়কটির চাঁনপুর ব্রিজ থেকে কালিকাপুর বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কটি বর্তমানে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে প্রায় সড়কটির বেশির ভাগ জায়গায় প্রায় ৪০ টির অধিক ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দে ভরে গেছে। যার ফলে এ সড়কটি দিয়ে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কুমিল্লা চাঁনপুর থেকে নন্দির বাজার ,মাঝিগাছা, বাস মঙ্গল, তৈলকুপি , ফকির বাজার, কালিকাপুর বাজার পর্যন্ত বেশির ভাগই সড়কেই খানাখন্দে এবং সড়কে বড় বড় গর্তে ভরে গেছে। বিশেষ করে মাটি বহনকারী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে এসব গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বড় বড় গর্ত ও বালির স্তরের মধ্যেই চলছে যাতায়াত ও যানবাহন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা শহর থেকে শুরু করে আদর্শ সদর, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। সড়কের দুই প্রান্তে জনবহুল কয়েকটি বাজার ও ৮/১০টি বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। ৩ টি উপজেলার প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি গ্রামের মানুষ জেলা সদরে আসার অন্যতম সড়ক এটি। ফলে চাকুরীজীবি থেকে শুরু করে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী সবাই এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। প্রতিদিন এ সড়কে কয়েক’শ যানবাহন চলাচল করে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর দাবি সড়কটি অতি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ব্যবস্থা নেবেন। স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানদেরকে ৫ আগষ্টের পর তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অনেকে জানান। সিএনজি চালক করিম বলেন, অনেক জায়গায় স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে ইটের শুরকি,বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে,তা না হলে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা আরো কষ্ট হত। তিনি জানান,ভোগান্তি নিয়েই এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অত্র এলাকার মানুষদের।
কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে কয়েকশত শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। রাস্তাটি নষ্ট থাকায় তাদের চলতে খুবই সমস্যা হয়। প্রায় সময়ই গাড়ি গর্তে আটকে গিয়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, দুর্ঘটনা ঘটে। অসুস্থ কোন ব্যক্তিকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা শহরেরর কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিকল্পকোন রাস্তা নেই। ভোগান্তি নিয়েই আমাদের এ রাস্তায় যাতায়াত করতে হয়। অপরদিকে কুমিল্লা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে যানজট সমস্যা এড়াতে এবং শর্টকাট আসা যাওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট অঞ্চলে যেতে অনেকেই এ সড়কটি ব্যবহার করেন। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি মনে করছি।
দুতিয়ার দিঘীর পাড় গ্রামের বাসিন্দা, ব্যাংক কর্মকর্তা রানা বলেন, প্রতিদিন আমাদের এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। বালি ও মাটির স্তুপ ও বৃষ্টিতে রাস্তাটি একদম চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার পিচ এবং ইটের সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু দিন পূর্বে একটি অটোরিকশা উল্টে পড়ে যায়। এতে একজন মহিলা যাত্রী গুরুতর আহত হয়। তারপরও শত ভোগান্তি নিয়েই এ রাস্তা দিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। আমি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ করব দ্রুত যেন রাস্তাটি মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।
জানাযায় এই সড়কটি সড়ক ও জনপদ দপ্তরের কিন্তু এর নির্বাহী প্রকৌশলী আওয়ামী দোসর আর তার করনেই সে এই সড়কটির উন্নয়ন করছেন না বলে মন্তব্য করেন এই সড়কে চলাচলকারী সচেতন মহল তারা আরো বলেন মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে জনগনের মাঝে সরকারের বদনাম করার অপচেষ্টা করছেন। যাদে করে সরকার ভালো না বলতে পারে সাধারন মানুষ তাতে বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন ভুলন্ঠিত হয়।