প্রধান উপদেষ্টার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দের বৈঠক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,আজ ৫ অক্টোবর শনিবার বিকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের আমন্ত্রণে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল তাঁর কার্যালয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন । বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে বৈঠকের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের দুঃশাসন, অপশাসনের পর গত ৫ আগষ্ট একটা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তনকে দেশের আপামর জনগণ অভিনন্দন জানিয়েছে। আমরা আরেকবার এই গণঅভ্যুত্থান যাদের নেতৃত্বে সংঘঠিত হয়েছে, যারা জীবন দিয়েছেন, দেশে-প্রবাসে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সকলকে দেশবাসী বিশেষ করে আমার দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এসময় যারা নিহত হয়েছেন আল্লাহ তায়ালার দরবারে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও দোয়া করছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে তাদের সুস্থতা কামনা করছি।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক এবং মিডিয়া সমাজের দর্পণ। বিভিন্ন কারণে সাড়ে ১৫ বছর আপনারা বিবেক অনুযায়ী কাজ করতে পারেননি। অনেক ক্ষেত্রে সমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য, সরকারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এবং মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করার জন্য আপনাদের বাধ্য করা হয়েছে। আর সবচেয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু আমরা অতীত নিয়ে ঘাটতে চাই না। আমরা দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সকলের সহযোগিতায় দেশবাসীর আকাক্সক্ষা অনুযায়ী অবদান রাখতে চাই। এজন্য অতীতে যা হয়েছে পিছনে ফেলে দিলাম। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যারা অভিযুক্ত, যারা খুন করেছে, লুটপাট করেছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, আয়নাঘর তৈরি করেছে, যারা মানুষের ওপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। আমাদের ওপর যেমন জুলুম করা হয়েছে; তেমিন তাদের ওপর জুলুম করা হোক, সেটাও আমরা চাই না। আমরা চাই ন্যায় বিচারের মাধ্যমে তাদের সঠিক পাওনাটা বুঝে দেয়া হোক।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা . শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আজ এসেছিলাম দেশ ও জাতির প্রয়োজনে। এই সরকার একটা নির্দলীয়, অন্তবর্তীকালীন সরকার। তারা দেশ শাসনের জন্য আসেননি। দেশ শাসনের সুষ্ঠু পথ বিনির্মাণের জন্য এসেছেন। তাদের কাজ হচ্ছে জাতিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া। এজন্য তারা কিছু মৌলিক বিষয়ে কাজ করবেন, কিছু সংস্কার করবেন, সেই বিষয়েই আজ আমরা কথা বলেছি। আমরা আগামী ৯ তারিখ আপনাদের মাধ্যমে জাতির সামনে আমাদের প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা সেদিন জাতির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং আমাদের চিন্তাগুলো তুলে ধরবো। পাশাপাশি দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। দেশের জনগণ এবং সরকার একসাথে মিলে কিভাবে আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নয়ন করা যায় এবং সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ব্যাপারে জাতিকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা যায় সেই বিষয়গুলো নিয়ে আজ আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি অন্তর্ববর্তী সরকার কোনো ধরনের পক্ষ-বিপক্ষের মানসিকতা পোষণ না করে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে দেশকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটা ভাল জায়গায় নিয়ে যাবে। আমরা আশা প্রকাশ করছি যে, তারা নাতিদীর্ঘ সময়ের মধ্যে জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন। আমরা সংস্কারের জন্য সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চেয়েছি। এই যৌক্তিক সময়টা কী হবে, এটা নিয়ে অচিরেই আমরা কাজ করবো এবং এভাবেই আমরা সামনের দিকে আগাতে চাই। আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ জাতির এই প্রত্যাশাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য এবং আগামী দিন একটি বৈষম্যহীন সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য এগিয়ে আসবেন, যেখানে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কারোর ওপর কোনো জুলুম করা হবে না। এমন একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠনে আপনারা এবং দেশবাসী আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানে সরকারের সঙ্গে জনগণের একটা পার্টনারশীপ থাকবে। জনগণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণ যদি একসঙ্গে কাজ করে তাহলে আমরা আশা করছি একটি অভূতপূর্ব দুর্গাপূজা আমাদের হিন্দু ধর্মের ভাইবোনেরা উদযাপন করতে পারবেন।
এসময় আমীরে জামায়াতের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, আ.ন.ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।