নিউজিল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ক্রিস্টোফার লুক্সোন (৫৩)। এর মধ্য দিয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হাতে নিলেন। লুক্সোন একটি বিমান সংস্থার সাবেক প্রধান। তিনি মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার এবং সুদের হার কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ আগে তার রক্ষণশীল ন্যাশনাল পার্টি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়। এর মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির ৬ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটে। এই সরকার থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা জানুয়ারিতে দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আমার এক নম্বর কাজ হবে অর্থনীতিকে ঠিক করা। জনগণের জীবনধারনের খরচ কমাতে হবে। মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, যাতে আমরা সুদের হার কমাতে পারি। মানুষ যাতে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে খাদ্য কিনতে পারে। লুক্সোন আরও বলেছেন, ক্ষমতার প্রথম কয়েকটি মাস আইন শৃংখলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সেবাখাতকে উন্নত করায় খরচ করবেন তিনি। আরও বলেছেন, তার সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে দু’দিন সময় নেবে মন্ত্রীপরিষদ।
এর আগে লেবার পার্টির সরকার মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে আনতে লড়াই করেছে। এই খরচ বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুকে দায়ী করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে করোনা মহামারীতে সরবরাহ ইস্যু এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন ক্ষমতা থেকে আকস্মিক সরে দাঁড়ান এ বছরের জানুয়ারিতে। তার কাছ থেকে ক্ষমতা নেন লেবার পার্টির ক্রিস হিপকিন্স। এরপর হয় জাতীয় নির্বাচন।
নতুন সরকার অপরাধের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন, স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ এবং পরিকল্পিত আয়কর বাড়ানো বাতিল করতে চায়। লুক্সোন বলেন, মুদ্রাস্ফীতির কারণে অনেক কিছু আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তার সরকার গত বছর গৃহীত ধুমপান বিরোধী আইন বাতিল করবে। ওই আইনে ২০০৮ সালের পরে যাদের জন্ম তাদের কাছে যেকোনো রকম তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ। উল্লেখ্য, দেশটির ৪২তম প্রধানমন্ত্রী হলেন লুক্সোন।