তখন বিছানায় শুয়েছিলাম, পাঁচ মিনিট পর অনুভূতি হল – সামান্য থেকে তীব্র আকারের ভয়ংকর ভূমিকম্প, হাইওয়ে রাস্তার পাশে বাসা থাকায় উপলব্ধি হয়নি প্রথমেই ভূমিকম্প। কিন্তু ভূমিকম্পের তীব্রতা আস্তে আস্তে যখন বেড়ে গেল- তখনই উপলব্ধি হচ্ছে যে ভূমিকম্পের তীব্রতা। তখন শোয়া অবস্থায় প্রস্তুতি নিয়ে রাখলাম মহান রবের দরবারে চলে যাওয়ার জন্য, তখন আমার অন্তরে শুধু মহান রবের একাত্মতা ঘোষণা । লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম । শুধু এতটুকুই পড়তেছি আর নিজেকে সামলে নিচ্ছিলাম, এই তো চলে যাচ্ছি – মহান রবের দরবারে ভয়ানক ভূমিকম্পের মধ্যে। আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম, চতুর্দিকে আওয়াজ, ঘরের আসবাবপত্র এদিক ওদিক হেলে দুলে পড়ছে। তখন শুধু মুখে উচ্চারিত হচ্ছে এক আল্লাহর আধিপত্যের ঘোষণা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বিল্ডিং কাঁপছে, পৃথিবী কাঁপছে , আসবাবপত্র কাঁপছে, সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে । পৃথিবীর তখন কোন চিন্তা আমাকে গ্রাস করতে পারেনি , আমাকে গ্রাস করেছে শুধু মহান রবের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুরো পাঁচ মিনিট – একপর্যায়ে ভূমিকম্পের তীব্রতা কমে যায়, তখন শোয়া থেকে উঠে দৌড় দিলাম বাহিরে যাওয়ার জন্য । বাহির হয়ে দেখি চতুরদিকে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও হাহাকার। শিশু , যুবক , বৃদ্ধ, পুরুষ মহিলা, বনি আদম সকল স্তরের মানুষ। এদিক ওদিক তাকিয়ে রইলাম। চতুরদিকের আকাশ বাতাস স্তব্ধ হয়ে রইল। আকাশের পাখি গুলো এদিক ওদিক ছুটে চলছে। রাস্তার চলন্ত গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে রইলো খুব অসহায় এক আতঙ্কের মধ্যে। বিল্ডিং এর ছাদ থেকে শুরু করে সব কিছুই দেখতে পেলাম নড়ছে তো নড়ছে। আতঙ্ক ও অবলীলায় চোখে তাকিয়ে রইলাম সেই মহান রবের সৃষ্টির এই পৃথিবীর দিকে। এইতো কেয়ামতের লক্ষণ। এক পর্যায়ে থেমে গেল সেই ভূমিকম্পের তীব্রতা । সকল মানুষের কন্ঠ উচ্চারিত হলো আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ । আল্লাহ তুমি পৃথিবীর সকল মানুষকে হেফাজত করো , আমীন।