চীনের ৪,৭৩৫ ফুট গ্রেট ওয়ালের চুড়ায় উঠা এবং আমার দেখা পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের উন্নয়েনর বাস্তব চিত্র –
ড. মো: আব্দুল ওয়াহাব, পরিবেশ সঙরক্ষন
ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ
গ্রেট ওয়ালের চুড়ায় উঠার জন্য আমাকে তারা সার্টিফিকেট প্রদান করেছে গত পোরশু। তবে চুড়ায় উঠার সুবিধার্থে ইট পাথর দিয়ে সিড়ির ব্যাবস্থা করেছে। সারা বেইজিঙ সিটিতে কোথাও এক টুকরো কাগজ দেখতে পাইনি। এতো নিট এন্ড ক্লিন।
তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পৃথিবীতে অতুলনীয়, গোটা জাতি খুবই সচেতন ও ক্রিয়াশীল। কিন্তু পুরা সিটিতে আরবান প্লাটেশন বা নগর জীববৈচিত্র শুধু ডেসিডুয়াস বা পর্ণমোচি বৃক্ষ দিয়ে ভরিয়ে রেখেছে আর এখন বসন্তের আগ দিয়ে কোনো গাছে পাতা নাই ফলে শহরের সৌন্দর্য অনেকক্ষানি ম্লান হয়ে গেছে। এজন্য এদের অনেককে চিরহরিৎ বা ইভার গ্রীন বৃক্ষ প্রজাপতি রোপনের কথা বলেছি যাতে সার ঋতুতে সমগ্র শহর সবুজ গাছের পাতায় ভরে থাকে।
এদের সমস্ত রাস্তা গুলি অনেক প্রসশ্ত ও মটর গাড়িগুলো তেমন হর্ন ব্যাবহার করেনা। ফলে পথচারী ও নগরবাসি শব্দ দূষনের শিকার হয় কম। এদের সারা নগর জুড়ে ওয়াটশন বা ওয়াটার ও সেনিটেশন খুবই উন্নত ফলে কেউ বিপদে পড়ে না। কিন্তু এদের পরিবেশগত একটি কঠিন সমস্যা রয়েছে যা শহর সঙলগ্ন চারিদিকে প্রচুর শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে যা থেকে নি:সৃত গ্যাস বায়ুমন্ডলকে দূষণে ভরে তুলে বেইজিঙ সিটিকে বিষাক্ত করে তুলেছে এবং বায়ু দূষণ (AQI)ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে এক নম্বর স্থান চলে এসেছিলো। যদিও, ভারতের দিল্লী, আমেরিকার নিউওয়ার্ক, জাপানের টোকিও সিটি, বাঙলাদেশের ঢাকা সিটিসমূহের বায়ু দূষণের
অবস্থা খুবই খারাপ। তবুও চীন সরকার চেষ্টা করছে বেইজিঙে বায়ুদূষণের অবস্থার উন্নয়নের জন্য। তবে বলতে হয় গত জুনে আমি জাপান ভিজিট করে বুঝতে পারলাম পরিবেশগত দিক থেকে চীনের পরিবেশ এগিয়ে আছে। গত অক্টোবরে মালদ্বীপ ও ডিসেম্বরে মালোশিয়া ভিজিটকালে দেখেছি তারা পরিবেশগত দিক থেকে আমাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। বরং আমরা অচেতন জাতি হিসেবে পৃথিবীতে এখন চিহ্নিত। আমাদের আর্থসামজিক পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিবেশ ও ফিজিক্যাল পরিবেশ সব দিক থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। জানিনা কবে ও কখন ও কারা এই অবস্থার পরিবর্তন করেতে পারবে। আমরা জাতি হিসেবে খুবই অসঙগঠিত ও জটিল মানুষিকতার অধিকারী। ফলে পরবর্তী জেনারেশন কি পাবে এটা ভাবতে দম বন্ধ হয়ে আসে। সমস্ত ভাবনাগুলো স্থীর হয়ে যায়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের পরিবেশ অধীদপ্তর, ফরেস্ট ডিপারটমেন্টে, সমাজ কল্যাণ অধীদপ্তর, রাজোউক ইত্যাদিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের উন্নয়েন জন্য অনেক পরামর্শ ও রিপোর্ট দিয়েছি যখন কনসালটেন্ট হিসেবে করতাম, কিন্তু এখনো করি।ড. মো: আব্দুল ওয়াহাব, পরিবেশ সঙরক্ষন
ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ